• ঢাকা
  • মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬ , রাত ১০:৪৬
শিরোনাম
হোম / উপসম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে অতন্দ্র প্রহরি হিসেবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রিপোর্টার : এবিএম সোলায়মান
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে অতন্দ্র প্রহরি হিসেবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে অতন্দ্র প্রহরি হিসেবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -

এবিএম সোলায়মান, লেখক ও সাংবাদিক-

বিংশ শতাব্দীর মানুষ হিসেবে যতটুকু জানি ততটুকুই বলার চেষ্টা করব। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন বা পাকিস্তানিদের শাসন আমরা যারা না দেখেছি তারা ইতিহাস থেকে অন্তত কিছুটা হলেও জানি। ভারত পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা যে আমাদের উপড় কতটা অত্যাচার নির্যাতন করেছিলেন সেটা কেবল সেই সময়কার মানুষেরাই বলতে পারবে। 

১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ সেটা ভৌগোলিক সীমারেখা দিক দিয়েই হোক বা ধর্মীয় বিচার বিশ্লেষণেই হোক আলাদা হয়েছে। মাঝে ১২০০ মাইলের বিশাল ব্যবধানে দুইটি রাষ্ট্রের একই শাসক পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল হলেও আমরা বাঙ্গালী জাতি প্রাথমিকভাবে মেনে নিলেও পরবর্তীতে অত্যাচার নিপিড়ন মেনে নিতে পারিনি। 

সেটা এদেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছিলেন। বুঝলে তো আর হবেনা দেশের মানুষকে সংগঠিত করতে হবে। প্রতিবাদী হতে হবে। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সেই কাজগুলো করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের প্রথম শ্রেণির মানুষ হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং  একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সকল আন্দোলনেই দুঃসাহসিক নেতৃত্বর মাধ্যমে এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতি হসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণের মধ্যে দিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। কেউ গৃহহীন থাকবেনা অনাহারে থাকবেনা। প্রতিটি মানুষ হবে স্বচ্ছ, তিনবেলা খাবার খাবে, অভাব থাকবেনা। 

কথাগুলো বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে শুনার ভাগ্য না হলেও বর্তামান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলে থাকেন। বঙ্গবন্ধু তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ঘাতকেরা নির্মম ভাবে শেখ মুজিবুর রহমান সহ স্ব-পরিবারে  হত্যা করে। আওয়ামীলীগ সরকার প্রাথমিকভাবে ক্ষমতায় আসার পর যখন টেলিভিশনে উনার বক্তব্য শুনতাম, প্রায় সময়ই এরকম বক্তব্য দিতেন, দেশটাকে নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দিব না। জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, ক্ষুধা মুক্ত, দরিদ্র মুক্ত, দেশ হবে। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা যত বাঁধায় আসুকনা কেন জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়বই ইনশাআল্লাহ। সেই সময়টাতে উনার কথায় রীতিমতো ভাবতাম। মনে করতাম আসলে উনি কিভাবে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবেন? আশেপাশে তাকালে তো গৃহহীন এবং না খেয়ে থাকা মানুষের অভাব নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। সেই সময় রাজধানীর সাথে বিভাগীয় পর্যায়ে কোন চারলেন রাস্তা ছিল না।

ক্ষমতা গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়েই ঢাকা টু ময়মনসিংহ এবং ঢাকা টু চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন করার পরিকল্পনা হাতে নেন। এবং খুব দ্রুতই তা শেষ করে ২০১৬ সালে উদ্বোধন করেন। তারপর ক্রমান্বয়ে ঢাকা টু সিলেট, টাঙ্গাইল এবং শরিয়তপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৬ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে রোড় সমাপ্তি হয়। এই সরকারের সবচাইতে বড় যে চ্যালেঞ্জ ছিল সেটা হচ্ছে পদ্মা সেতু। বিশ্ব ব্যাংক থেকে যখন ঋণ পাইনি তখন সরকার নিজেই ঘোষণা দিয়েছিল এই পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের অর্থায়নেই করব। এবং সরকারের কথা মতো কিন্তু পদ্মা সেতু করছে। যার সুফল আজ বাংলাদেশের মানুষ ভোগ করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগ সরকারের দেওয়া ইশতেহারের মধ্যে অন্যতম ছিল দেশকে ডিজিটাল দেশ হিসবে উপহার দেওয়া। শেখ হাসিনার এই নির্বাচনী ইশতিহার শুনে অনেকেই হয়তো হাসি ঠাট্টা করেছিলেন। বলেছেন যেই দেশের মানুষ তিনবেলা ভাত খেতে পারেনা সেই দেশ হবে ডিজিটাল! এটা কোনদিন সম্ভব হবে না। উনার দেওয়া কথা এবং পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে দেশ আজ ডিজিটাল দেশে পরিনত হয়েছে। 

ডিজিটাল কথার মানে যারা বুঝেন তারা কিন্তু বিশ্বাস করেন সত্যিই আজ আমরা ডিজিটাল দেশে বসবাস করছি কিনা। ডিজিটাল মানে হচ্ছে দেশটি শতভাগ বিদ্যুৎতের আওতায় আসবে। সবরকমের কাজ অনলাইনের মাধ্যমে করা যাবে যেকোনো জায়গা থেকে। আমরা একটু মিলিয়ে দেখতে পারি বর্তমানে বাংলাদেশ এসবের মধ্যে পড়ে কিনা। কেউ কেউ মনে করতে পারেন, তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি হলে দেশ এমনিতেই ডিজিটাল হবে। একথাটি একদমি ভূল। বর্তমান পৃথিবীতে সব দেশেই এমন সুযোগ নেই। একটি দেশের অগ্রগতীর জন্য সেদেশের সরকারকে অবশ্যই দেশের প্রতি চিন্তাশীল হতে হবে। দেশকে নিয়ে ভাবতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। আমি মনে করি তিনি দেশকে নিয়ে যথেষ্ট ভাবেন, চিন্তা করেন। যদি নাই ভাবতেন তাহলে এতো অল্প সময়ে এতোটা পরিবর্তন সম্ভব ছিলনা। দেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে সমানভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। ২০১২ ও ২০১৩ সালে মায়ানমার ও ভরতের সাথে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে করা মামলার রায়ে সমুদ্র সীমানা নিধারণ করেন বর্তমান সরকার। পূর্বে কোন সরকার এমন কাজে হাত দিতে পারেননি। 

ভোটের সময় সাধারণ মানুষের মাঝে কমন একটি কথা শুনা যায়। সেটা হচ্ছে ভোট দিলেই কি হবে! সরকার কি আমাদের ঘর করে দিবে! ভাবতাম সরকার কি কখনো কাউকে ঘর করে দেয়? এটা কি আদৌ সম্ভব? বর্তমান সরকার সেটিও করে দেখিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোন মানুষ গৃহহীন থাকবেনা। সেই প্রকল্পে সরকার এখন পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দিয়ছেন। যা বিশ্বে নজির। এই প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

চলবে.....

উপসম্পাদকীয়

আরও পড়ুন