• ঢাকা
  • রবিবার , ২১ জুন ২০২৬ , বিকাল ০৪:৩১
শিরোনাম
হোম / জাতীয়

তারাকান্দায় হুইল চেয়ার নিয়ে হঠাৎ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী নোভার বাড়ীতে ইউএনও

রিপোর্টার : আরিফ রাব্বানী
তারাকান্দায় হুইল চেয়ার নিয়ে হঠাৎ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী নোভার বাড়ীতে ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি

তারাকান্দায় হুইল চেয়ার নিয়ে হঠাৎ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী নোভার বাড়ীতে ইউএনও 

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নোভার অদম্য মনোবলকে জাগিয়ে রাখতে তার পাশে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলেন  ইউএনও মিজাবে রহমত। উপজেলা সদর থেকে ২০কিলোমিটার দুরে নোভার গ্রামের বাড়ীতে হুইল চেয়ার নিয়ে হাজির হলেন তিনি।এ দৃশ্য উপজেলাব্যাপী সর্বস্তরের জনতার মাঝে প্রশংসনীয় আলোচনার স্থান দখল করে নিয়েছে।

সুত্র মতে-প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে বিকলাঙ্গ পা  নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নোভা। পা নেই,হাটতে পারেনা,তবুও নিয়মিত স্কুলে গিয়ে রীতিমতো চমক দেখিয়ে যাচ্ছে সে। নোভা বর্তমানে ফতেপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী। প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে সকল ক্লাশে অংশ নিয়েছেন হাটুতে ভর করে।

নোভা ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় অদম্য মেধাবী। তাই প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-ফাইভসহ ভালো ফলাফল অর্জনের প্রস্তুতি নিয়েই লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে নোভা। উপজেলার সদর থেকে প্রায় ২০ কি.মি. দূরে ---গ্রামে তার বাড়ি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্ম থেকেই নোভার এই অবস্থা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত বিষয়টি জানতে পেরে

অদ্যম সাহস আর মনোবল নিয়ে বিকলাঙ্গ পা  নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এ শিক্ষার্থীকে চলাফেরা করার স্বার্থে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কি.মি. দূরে বিদ্যালয়ের কর্দমক্ত রাস্তা পাড়ি দিয়ে নিজ হাতে পৌছে দিলেন হুইল চেয়ার। ইউএনও'র হাতে হুইল চেয়ার পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হন নোভা। এসময় উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব জিবন আরা বেগম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি  পা নেই নোভার। আরেক পা জন্মগতভাবে ছোট তাতে কৃত্রিম পা লাগানো। সেই পা নিয়ে চলা কষ্টকর এবং তাতে প্রচন্ড ব্যথা হয়। তবে সে দুর্দান্ত মেধাবী ও কঠিন সংগ্রামী। সেই পা দিয়েই চলে তার সব কাজ।

নোভা জানান, এক পা সুস্থ না থাকলেও তার লেখাপড়া করা ও স্বাভাবিক চলাচলে মা-বাবাসহ পরিবারের সকলেই তাকে সবসময় সহযোগিতা করে আসছেন।

সে আরো বলেন, আমি সরকারের সুদৃষ্টি পেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবা করতে চাই।

 উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত  বলেন, নোভার অদম্য মেধার গল্প শুনে সত্যিই ভালো লাগছে। সরকারের পক্ষ থেকে নোভার প্রতি সবসময় সুদৃষ্টি থাকবে।

জাতীয়

আরও পড়ুন