স্টাফ রিপোর্টার
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা ভূমি অফিস শতভাগ দুর্ণীতি ও হয়রানিমুক্ত ডিজিটাল ভূমি সেবার মাধ্যমে মানুষের সুনাম অর্জন করেছে। ‘স্মার্ট ভূমি সেবায় ভূমি মন্ত্রণালয়’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ডিজিটাল ভূমি সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমি অফিসকে দুর্ণীতি ও দালালমুক্ত করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্ত করতে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ । তার দক্ষ নেতৃত্বে ত্রিশালে ভূমি সেবায় এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। ভূমি সেবায় ত্রিশাল এখন দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার দাবিদার হয়ে উঠেছে । সহজে ভূমি সেবা পেয়ে এখানকার মানুষও দারুন খুশি ।
জানা গেছে, হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ গত ২৭ডিসেম্বর ২০২১সাল থেকে ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ।তিনি এই সময়ে ত্রিশাল উপজেলার সরকারি খাস জমি উদ্ধার, মিসকেসে (নামজারি জমাভাগ খারিজ সংক্রান্ত) মামলা শুনানির মাধ্যমে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি, ভূমি নিয়ে স্থানীয় বিরোধের অবসান, স্বচ্ছতার সাথে ভূমি সেবা প্রদান, সহজীকরণ, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখা, ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড, অনলাইন শুনানি, আরএস খতিয়ান, খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন, অনলাইন রিভিউ মামলা, ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণীর আপত্তি-নিষ্পত্তি, মিউটেশন (ই নামজারী) তে শতভাগ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এছাড়াও অনলাইনে খারিজ খতিয়ানের ডাটাবেজ প্রস্তুতকরণ কার্যক্রমসহ ভূমি নিয়ে জটিলতা নিরসনে আরও অনেক সেবাদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এসবের বাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ভেজালবিরোধী অভিযান, পরিবেশ রক্ষার অভিযান, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধ ,নিয়মিত ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরির্দশন করে ত্রিশালবাসীর প্রশংসার দাবিদার হয়েছেন তিনি ।
এ্যাসিল্যান্ড হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দক্ষতার সাথে কাজ করে ভূমি উন্নয়ন ও জটিলতাসহ সব ধরনের সমস্যা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন । তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এখন ১৪দিনে নামজারি করা যাচ্ছে যেখানে আগে নামজারি করতে সময় লাগতো ৪৭ দিন ।এ বছর ত্রিশাল উপজেলা ভূমি অফিস ই -নামজারিতে ময়মনসিংহ জেলায় সুনাম কুড়িয়েছেন।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান,সুযোগ সুবিধার অভাবে এবং সর্বত্র দালালদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অনেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যন্ত পৌছাতে পারেন না। কারণ ভূমিসেবা সহজীকরণ ও হয়রানিমুক্ত করতে পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে স্মার্ট ব্যবস্থা একটি প্ল্যাটফরম (land.gov.bd) থেকেই বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী ‘রেজিস্ট্রেশন-মিউটেশন আন্তঃসংযোগ’, ‘স্মার্ট ভূমি নকশা’, ‘স্মার্ট ভূমি রেকর্ড’ এবং ‘স্মার্ট ভূমি-পিডিয়া’ তিনটি উদ্যোগ এবার ভূমিসেবা সপ্তাহ-২০২৩ এ উদ্বোধন করেন, যা ভূমি সংস্কারে এনেছে এক নবদিগন্ত ।ই-মিউটেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমি অফিস শতভাগ অনলাইন সেবা দিচ্ছে। অনেকেই মুঠো ফোনে কল করে, সরাসরি সাক্ষাৎ এ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সহিত সেবা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন র্স্মাট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ত্রিশাল ভূমি অফিস বদ্ধ পরিকর ।এখন সেবা দেওয়ার ধরনই যেন সহজ হয়ে গেছে । সেবাপ্রার্থীরা মেশিনে নিজের ফোন নম্বর ও নামজারির নম্বর দিয়ে সেবার সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে পারছেন।
এছাড়া, স্ব-শরীরে অফিসে না এসেও অনলাইনে জমা দিতে পারছেন জমির খাজনা। অনলাইনে জেনে নিতে পারছেন তথ্য। জমা দিতে পারছেন সেবার জন্য নির্ধারিত ফি। ফলে ভোগান্তি দূর হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা একাধিক লোকের সাথে কথা বললে জানা যায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুততম সময়ে সেবা প্রার্থীরা গফরগাঁও ভূমি অফিস হতে অনায়াসে সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অফিসে আগত বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকা থেকে আগত সেবা গ্রহীতারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, জনবান্ধব জনসেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। একজন মানুষও যাতে ভোগান্তির শিকার না হয় সেজন্য সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দিতে।বর্তমান ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো.মোস্তাফিজার রহমেনের নির্দেশনা আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুয়েল আহমেদ এর প্রচেষ্টায় এই সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।