শেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, মুহূর্তের জরিপে কে এগিয়ে?
অনলাইন ডেস্ক :
নর্থ ক্যারোলিনায় প্রচারে অংশ নেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প -এএফপি ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’ টেলিভিশন কমেডি শোতে উপস্থিত হয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস -এএফপি
আগামীকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শুরু। ওই দিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ‘টাইম জোনে’ ব্যবধান থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোট শুরু হবে। এই নির্বাচনটি হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ‘দ্বিতীয় ফাইনাল’, কিন্তু জুলাই মাসে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে গিয়ে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেওয়ায়Ñ এখন লড়াই দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প-কমলায়।
শুরু থেকে এই দুজনের মধ্যে কমলা এগিয়ে থাকলেও ভোটের দিন যত এগিয়েছে, জরিপের ফলে দুজনের ব্যবধানও তত কমেছে। এখন শেষ মুহূর্তের ফলাফলে দেখা যাচ্ছেÑ দুজনই প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছেন। এতে প্রায় সবাই ধরেই নিচ্ছেনÑ দুজনের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জাতীয়ভাবে ভোটারদের জরিপে দেখা গেছেÑ ট্রাম্পের চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন কমলা। জাতীয়ভাবে যেসব জনমত জরিপ হয়েছে, তার গড় করে দেখা যাচ্ছে, গতকাল রবিবার পর্যন্ত কমলা হ্যারিসের পক্ষে সমর্থন ৪৮ শতাংশের, আর ট্রাম্পের সমর্থন ৪৭ শতাংশ।
এ নির্বাচনে একজন প্রার্থী দেশব্যাপী কতটা জনপ্রিয় তা ধারণা নেওয়ার জন্য জাতীয় জরিপের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এই জরিপের মধ্য দিয়ে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না যে, এখানে যে প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন, তিনিই জয়ী হবেন। কেননা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রার্থী জয়ী হন না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মাধ্যমে। এ পদ্ধতিতে জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য পৃথক ইলেক্ট্রোরাল কলেজ ভোট বরাদ্দ থাকে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট আছে ৫৩৮টি। এর মধ্যে ২৭০টি প্রয়োজন জয়ের জন্য। এক রাজ্যে যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, সব ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট তিনিই পাবেন।
মার্কিন নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। দেশটিতে ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলোয় দেখা গেছে, বেশির ভাগ রাজ্যের বাসিন্দারা ঐতিহাসিকভাবে একই প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে থাকেন। কিন্তু যেসব রাজ্যের নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেওয়ার ইতিহাস নেই, সেসব রাজ্য ভোটের ফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন রাজ্য রয়েছে সাতটি, যাদের ‘দোদুল্যমান রাজ্য’ বলা হয়ে থাকে। এগুলো হলোÑ অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন। দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর ভোটারদের নিয়ে করা সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোয় দেখা গেছে, এসব অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প ও কমলার মধ্যে ব্যবধান এতই কম যে, কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন, তা বলা মুশকিল। ফলে আন্দাজও করা যাচ্ছে না যে কোন প্রার্থীর পাল্লা ভারী। কমলা প্রার্থী হওয়ার পর থেকে জরিপে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় দুই প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ওঠানামা করতে দেখা গেছে। আগস্টের শুরু থেকে অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাদা ও নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে দুই প্রার্থীর মধ্যে সমর্থন কয়েক দফা কমবেশি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ কখনও একজন এগিয়ে ছিলেন, তো কোনো সময় অন্যজন। তবে এ মুহূর্তে এসব রাজ্যে এগিয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আগস্টের শুরু থেকে জনমত জরিপে দোদুল্যমান অন্য তিন অঙ্গরাজ্য মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনে এগিয়ে রয়েছেন কমলা হ্যারিস। তবে জরিপে তার জনপ্রিয়তাও ওঠানামা করতে দেখা গেছে। এসব অঙ্গরাজ্যে কমলা ট্রাম্পের চেয়ে কখনও দুই পয়েন্ট, তো কখনও তিন পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন ব্যবধান আরও কমেছে। এ মুহূর্তে পেনসিলভানিয়ায় অল্প ব্যবধানে এগিয়ে ট্রাম্প।