• ঢাকা
  • বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬ , রাত ০৩:৫৯
শিরোনাম
হোম / সারাদেশ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তারেকের বক্তব্য অপসারণে কাজ শুরু করেছে টিভিআরসি

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টাস
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তারেকের বক্তব্য অপসারণে কাজ শুরু করেছে টিভিআরসি

নিউজ ডেস্ক

হাইকোর্টের আদেশে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য অপসারণের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিটিআরসির আইনজীবী খোন্দকার রেজা ই রাকিব বিষয়টি আদালতকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এর মধ্যে বেশ কিছু ভিডিও অপসারণ করেছে বিটিআরসি। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে তারেকের সব বক্তব্য অনলাইন থেকে অপসারণ সম্ভব হবে। ভবিষত্যেও তারেক রহমানের লাইভ ভিডিও প্রচারের ক্ষেত্রে কাজ করবে বিটিআরসি। 


বিটিআরসির আইনজীবী আরও বলেন, গতকালই আমরা হাইকোর্টের আদেশের ল’ইয়ার সার্টিফিকেট পেয়েছি। হাইকোর্টের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি এর সার্টিফায়েড কপির জন্য।

এর আগে গতকাল (২৮ আগস্ট) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তারেক রহমানের বক্তব্য সরানোর জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশকে কেন্দ্র করে এজলাস কক্ষে বিএনপিপন্থি ও আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে টানা ৩০ মিনিটের মতো হইচই ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

ওই আদেশের পর তুমুল হট্টগোলের মধ্যে এজলাস কক্ষে মামলা পরিচালনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান। তখন বিচারপতিদের উদ্দেশে বিএনপির আইনজীবীরা ফাইল ছুঁড়ে মারেন। বিচারপতিরা চলে যাওয়ার সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা শেইম-শেইম বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে এজলাস কক্ষের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার বন্ধে ২০১৫ সালে আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন। ভবিষ্যতে কোনও পত্রিকা, ইলেট্রনিক মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেকের বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার বা পুনঃউৎপাদন বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিবের প্রতি নির্দেশনা চান বাদী।

রিট আবেদনে তথ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে বিবাদী করা হয়।

রিটটির শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি পলাতক আসামি হওয়ায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুল জারি করেন আদালত। তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে তথ্য সচিবের প্রতি কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। মামলার বিবাদীদের এ রুরের জবাব দিতে বলা হয়। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপিত আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

তবে গত ২ আগস্ট তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার বন্ধে জারি করা রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টে আবেদন (মেনশন স্লিপ জমা) করেন রিটকারী। এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটি শুনানিতে ওঠে।

এরপর গত ১০ আগস্ট দেশের সব গণমাধ্যম, ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ সব মাধ্যমে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার বন্ধের বিষয়ে করা রিটে বিবাদী তারেক রহমানের লন্ডনের ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ করে সম্পূরক আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

সারাদেশ

আরও পড়ুন