• ঢাকা
  • সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬ , রাত ১০:৫২
শিরোনাম
হোম / জাতীয়

কাল থেকে উড়াল সড়কে চলবে বিআরটিসির বাস

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টাস
কাল থেকে উড়াল সড়কে চলবে বিআরটিসির বাস

নিউজ ডেস্ক

চালুর পর থেকে গণপরিবহনগুলো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে খুব একটা সাড়া না দেয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিসি) এবার উড়ালসড়কে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম দফার উড়ালসড়ক দিয়ে আটটি বাস চলাচল করবে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থাটির।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বিআরটিসির বাস চলাচল কার্যক্রম আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন হতে পারে। প্রথম দফায় উড়ালসড়ক হয়ে একটি রুটেই নিয়মিত বাস চলবে। খেজুরবাগান থেকে বিজয় সরণি হয়ে বিমানবন্দরের কাওলায় নেমে বাস যাবে উত্তরা জসিমউদ্দিন পর্যন্ত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই উড়ালসড়কে বাস চলাচল কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। আগের নির্ধারিত ভাড়ায় বাসগুলো এই রুটে চলাচল করবে। সরকারের যেকোনো প্রকল্প আসে মানুষের কল্যাণে। এখনো প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার করেন। ফলে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যেন মানুষ গণপরিবহনের সেবা পান, সে জন্যই এতে বাস চালানো হবে।’

এদিকে বিআরটিসি সূত্র জানিয়েছে, এই রুটে বিআরটিসির দ্বিতল লাল গাড়ি চলবে। এই বাসের ওপর ও নিচে মিলে আসনসংখ্যা হবে ৭৫টি। খেজুরবাগান থেকে উড়ালসড়ক হয়ে জসিমউদ্দিন পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার পথ। এই বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা আর সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা।

উড়ালসড়কে গণপরিবহন চলার বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বিআরটিসির বাস চলাচল করাকে আমরা স্বাগত জানাই। যাদের গন্তব্য ফার্মগেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত তাদের জন্য এটা ভালো উদ্যোগ। এতে সাধারণ মানুষের উপকার হবে। যাতায়াতে সময় কমবে। একই সঙ্গে বেসরকারি বাস কোম্পানিগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বেসরকারি কোম্পানির গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা আমাদের আছে। কিন্তু সিটি পরিবহনের যাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে নামেন, বাস যখন এক্সপ্রেসওয়েতে উঠবে, যাত্রীরা সব জায়গায় নামতে পারবেন না। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মহাখালী থেকে ওঠার র‍্যাম্পটি কমপ্লিট হলে দূরপাল্লার বাসগুলো মহাখালী থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে উত্তরা নামতে পারবে।’

এদিকে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত ‘‌ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্পনাগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনলাইন সমসাময়িক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষণী এক অনুষ্ঠানে আইপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপযোগিতা সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করতে সিটি বাস সার্ভিসের জন্যও ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ডিজাইন সংশোধন করা ও বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। বর্তমানে চালু হওয়া আংশিক অংশে ফার্মগেট-এয়ারপোর্ট সরাসরি বাস সার্ভিস ও মিনিবাস সার্ভিস চালু করার পাশাপাশি পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাত্রাবাড়ী-এয়ারপোর্ট/উত্তরা বাস সার্ভিস চালু করার দাবি জানানো হয়েছে। টোল আদায়ে অটোমেশন পদ্ধতি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির গতিবেগ নজরদারির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তারা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দরের কাওলা থেকে তেজগাঁওয়ের ফার্মগেট পর্যন্ত প্রথম অংশ গত ২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরের দিন ৩ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা থেকে উড়ালসড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ আগামী বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয়

আরও পড়ুন