• ঢাকা
  • সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬ , রাত ১০:৫২
শিরোনাম
হোম / শিক্ষা

কত বড় আমাদের মহাবিশ্ব??

রিপোর্টার : সিনিয়র রিপোর্টাস
কত বড় আমাদের মহাবিশ্ব??

সাহিত্যিক কলামিস্ট

লিখেছেন, এবিএম সোলায়মান লেখক ও সাংবাদিক 


প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত।

পদার্থের কথা বললে, তিনটি মৌলিক কণা, ইলেক্টন, প্লোটন, নিউটন থেকে শুরু করে পরমানু, অনু, মৌল, যৌগ তারপর রুপ নেয় পদার্থের। 

তেমনি যদি কোন জীবের কথা বলি প্রথমে আসে, জীবের অতি ক্ষুদ্রতম অংশ কোষ, টিস্যু কলা ইদ্যাদি বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গের মাধ্যমে গঠিত হয় মানব দেহ বা সকল জীব। 

এসব হচ্ছে ছোটখাটো বস্তু। আবার গণনার দিকে বললে আসে, একক, দশক, শতক, হাজার,অযুত, লক্ষ, নিযুত, কোটি, বিলিয়ন ট্রিলিয়ন, সিলিয়ন, অক্ট্রালিয়ন ইত্যাদি। যদি বৃহৎ বস্তুর কথা বলি যেমন: আমাদের বসবাসরত পৃথিবী, সৌরজগৎ, ছায়াপথ বা মহাবিশ্ব?? সেসব ক্ষেত্রেও একই ব্যাপারটি লক্ষনীয়।

বিষয়টি বুঝার জন্য দুই দিক থেকে বিশ্লেষন করা যায়। 

প্রথমত, বর্তমান সময় থেকে পিছনে ফিরে যাওয়া। 

দ্বিতীয়ত, সময় যেখান থেকে সৃষ্টি হয়েছে সেখান থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে ফিরে আসা।

আমরা যদি ২য় বিষয় নিয়ে আলোচনা করি তাহলে দেখা যায়, সময়ের উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছে সেখানে ফিরে যেতে হবে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে সময়ের উৎপত্তি হয় বিগব্যাং বা মহাবিষ্ফোরণের ফলে।  আজ থেকে আনুমানিক ১৪ শত কোটি বছর পূর্বে বৃহৎ এক বিষ্ফোরণের ফলে আমাদের এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি। একরকম শূন্য থেকেই হয় এই বৃহৎ বিষ্ফোরণ। যেই বিষ্ফোরণটি ছিল হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার চাইতেও কয়েকগুনে বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয় singularity নামক অতি ক্ষুদ্র জায়গা থেকে। যেখানে শক্তিগুলো একত্রিত ছিল। বিগ ব্যাং এর এক সেকেণ্ডের কোটি কোটি ভগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিশনের মাধ্যেম কণাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গঠিত হতে থেকে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, নিয়নের মত অসংখ্য পরমানু, অনু ও পদার্থ। সেই সব পদার্থ বিশাল শক্তির বলয়ে একত্রিত হয়ে নিহারিকা, নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, নিয়ে সৃষ্টি হয় ছায়াপথ। 

আনুমানিক একেকটি ছায়াপথে দশ হাজার কোটি নক্ষত্র থাকে। প্রতিটি নক্ষত্রের বলয় হচ্ছে গড়ে আমাদের সৌরজগতের মত। এমন অসংখ্য ছায়াপথ নিয়ে গঠিত হয় গ্যালাক্সি। 

এসব গ্যালাক্সিগুলো একটি অপরটি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। 

বিজ্ঞানী 'এডুইন হাবল' সর্বপ্রথম গ্যালাক্সির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেই বিগব্যাং এর সময় নিধারণ করতে সক্ষম হয়। 

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বে এমন গ্যালাক্সির সংখ্যা ২০০ বিলিয়ন। মহাবিশ্বের এতসব বস্তুর পরেও ৭০ ভাগ জায়গা হচ্ছে ফাঁকা। বাকী ৩০ ভাগ জায়গা বিভিন্ন বস্তু দ্বারা আবৃত।  এটাশুধু একটি মহাবিশ্বের বর্ণনা। এমন মহাবিশ্ব নাকি রয়েছে অসংখ্য। তার সংখ্যা হতে পরে আমাদের মহাবিশ্বে থাকা গ্যালাক্সির সংখ্যা থেকে শত শত গুনে বেশি। যা বিজ্ঞানীদের এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের বাহিরে।

মহাবিশ্বকে ইংলিশে বলা হয় universe। আর অসংখ্য মহাবিশ্ব মিলে একত্রে বলা হয় multiverse.।

এখন কথা হচ্ছে, একসময় আমরা জানতাম মহাকাশ, মহাবিশ্ব বা মাল্টিভার্স এসবকিছুই হচ্ছে আমাদের বসবাসরত পৃথিবী তার বেশি কিছু নয়। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে একটা সময় আমরা জানতে পারলাম পৃথিবীটাই হচ্ছে আলাদা একটা বস্তু। তেমনিভাবে চাঁদ, সূর্য, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি, মহাবিশ্ব। এসব কিছুই হচ্ছে আলাদা আলাদা বস্তু। তার মধ্যে আমরা সবকিছুকে যে বস্তুটিতে কল্পনা করেছি সময়ের ব্যবধানে  সেটিই হয়েগেছে এখন সবচাইতে ছোট বস্তু। 

আমরা আজো বলতে পারবনা এই ব্রামাণ্ডে আরো কত কি মহান আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করে রেখেছেন? যা যুগে যুগে মানুষের কাছে বিষ্ময় ও রহস্য হয়ে থাকবে!

শিক্ষা

আরও পড়ুন