প্রসাদ দাস, ক্রাইম রিপোর্টার :
অবশেষে রাজিয়া খাতুন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতার করলো ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার একদল চৌকস পুশিশ অফিসার।
ঘটনাসূত্রে জানাগেছে গত (১৪ মে ২০২৪) তারিখে সকাল অনুমান ০৮:০০ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন চর নিলক্ষীয়া উজানপাড়া সাকিনস্থ জনৈক রতন চেয়ারম্যানের শুকনা পুকুরের পশ্চিম পাশে গর্তের মাঝে অর্ধেক শরীর মাটি চাপা অবস্থায় রাজিয়া খাতুন (৩০)এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
উক্ত ঘটনায় মৃত রাজিয়া খাতুন (৩০) (মানসিক রোগী), মাতা বাদী হইয়া অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করলে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার রুজু করা হয়। মামলাটি তদন্ত কালে জানা যায় যে, আসামী মোঃ আল আমিন (২৫), পিতা- মজিবুর রহমান ওরফে মজি,সাং- কোনাপাড়া কইট্রার মোড় সুরুজের বাড়ী, রুহুল আমিন (২৬), পিতা- গোলাম হোসেন, মাতা- জোৎস্না বেগম, আব্দুল্লাহ ওরফে জাকিরুল (১৯), পিতা- সাইফুল ইসলাম, মাতা- জাহানারা, উভয় সাং- চরনিলক্ষীয়া সাথিয়াপাড়া বড়বাড়ী, সর্ব থানা-কোতোয়ালী, জেলা- ময়মনসিংহ গত ইং-১২ জুন রাত অনুমান ০৯:০০ ঘটিকার সময় মৃত রাজিয়া খাতুন (৩০) কে চর নিলক্ষীয়া উজানপাড়া মাজার হইতে ডেকে নিয়ে মাজারে পাশে থাকা জনৈক রতন চেয়ারম্যানের শুকনা পুকুরের কাচারে নিয়া যায়। প্রথমে আসামী রুহুল আমিন এবং আব্দুল্লাহ ওরফে জাকিরুল প্রথমে ভিকটিম রাজিয়া খাতুনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে বৃষ্টি আসায় তাহারা দুইজন মেয়েটিকে আসামী মোঃ আল আমিন এর সাথে মাজারে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে বৃষ্টি থামলে আসামী মোঃ আল আমিন পুনারয় ভিকটিম রাজিয়া খাতুনকে জনৈক রতন চেয়ারম্যানের শুকনা পুকুর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়া যায় এবং ভিকটিম রাজিয়া খাতুনকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভিকটিম রাজিয়া খাতুনকে আসামী মোঃ আল আমিন টানা হেচড়া করিয়া অনেক চেষ্টা করিয়াও ধর্ষন করিতে না পারায় আসামী মোঃ আল আমিন ক্ষিপ্ত হইয়া ভিকটিম রাজিয়া খাতুনকে পুকুরে জমে থাকা পানিতে মাথা ডুবিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ গুম করবার জন্য পুকুরের কাঁদা মাটিতে চাপা দিয়ে রেখে চলে যায়।
অথপর ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহম্মেদ ভূঞার নির্দেশক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এর তত্বাবধানে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিনের দিক নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক( তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এস আই নি: দেবাশীষ সাহা, এস আই নি: আল্ মামুন, এস আই নি: আনোয়ার হোসেন, এস আই নি মনিতোষ মজুমদার, এ এস আই নি: ফরহাদ হোসেন, এ এস আই নি: মাসুদ রানা সঙ্গীয় ফোর্সসহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী আল আমীন (২৫) পিতা মজিবর রহমান ওরফে মজি, সাং -কোনাপাড়া কইট্রার মোড় জৈনক সুরুজের বাড়ী হতে গ্রেফতার করেন।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদকরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে হত্যার সথে জড়িত অপর দুই আসামী রুহুল আমীন (২৬) পিতা গোলাম হোসেন, আব্দুল্লা ওরফে জাকিরুল (১৯) পিতা সাইফুল ইসলাম, উভয় সাং- চরনিলক্ষীয়া সাথিয়া পাড়া,বড়বাড়ী সর্ব থানা -কোতোয়ালী, জেলা -ময়মনসিংহে গ্রেফতার করেন। সকল আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌ: কা: বি: ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।