নিউজ ডেস্ক
ভারতের সিকিমে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও এনডিআরএফ দল এখনও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিবঙ্গ সরকার এক বৃবিতিতে বলেছে, এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন সেনা ও দুই বেসামরিক ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। তবে এই সেনারা ওই নিখোঁজ ২২ সেনার মধ্যে ছিলেন কিনা তা জানা যায়নি।
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বন্যায় আহত ২৬ জনকে সিকিমের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া লাচেন এবং লাচুং এলাকায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী সচিব বিজয় ভূষণ পাঠক বলেন, বিভিন্ন যানবাহনের ৭০০ থেকে ৮০০ চালক সেখানে আটকা পড়েছেন। এ ছাড়া শুধু মোটর সাইকেলে যাওয়া ৩ হাজার ১৫০ যাত্রী সেখানে আটকা রয়েছন। আমরা তাদের বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এসএসডিএমএ) জানিয়েছে, প্রায় ৩ হাজার বিদেশি পর্যটক সেখানে আটকা পড়েছেন। তাদের মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিংটাম, মাঙ্গান, নামচি এবং গ্যাংটক এলাকায়। সেখানে কমপক্ষে ২৭৭টি বাড়ি ধসে গেছে।
বন্যাদুর্গতদের জন্য ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) বলছে, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ওই রাজ্যে মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৪০ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা অন্যান্য বছরের একই সময়ের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ। সিকিমে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা নিয়মিত ঘটনা। বিশেষত জুন থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুমে। তবে অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ ধরনের বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যায়।