• ঢাকা
  • শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , রাত ১০:৩৭
শিরোনাম
হোম / রাজনীতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন মরা লাশ ---ওবায়দুল কাদের এম পি

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টার
তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন মরা লাশ ---ওবায়দুল কাদের এম পি

জেলা প্রতিনিধি

প্রসাদ দাস, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : ... 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও  সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মরিয়া ভূত হইয়া গেছে। এগুলো মাথা থেকে নামান। বলছি নামান, নয়তো এ ভূতে বিএনপি শেষ হয়ে যাবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন মরা লাশ। এই লাশ আজিমপুর কবরস্থানে আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে। এই তত্ত্বাবধায়ক আর কোনোদিন চোখ মেলবে না। 

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে ঢাকার প্রবেশপথে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, খেলা হবে, খেলা হবে, এখন কোয়াটার ফাইনাল, তারপরে সেমি ফাইনাল,  জানুয়ারিতে ফাইনাল। তিনি বলেন, খেলা হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, দুনীতির বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে, খেলা হবে ভোট চুরির বিরুদ্ধে, অস্ত্র ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে, ওই দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। মির্জা ফখরুল কি বলে, কালকে দুপুর বেলা মার্কিন রাষ্ট্রদুতের বাসায় গিয়ে হাজির। চার ঘণ্টা নাকি ছিল। বের হয়ে মিডিয়াকে বলে এ সরকারের সময় শেষ। ফখরুলের সময় শেষ। ইদানিং ফখরুল ঘন ঘন বলে আজরাইল নাকি শেখ হাসিনার মাথার পাশে ঘুরছে। আজরাইল নাকি আওয়ামী লীগের জান কবজ করতে চায়। আসলে কি আওয়ামী লীগের সময় শেষ! ফখরুল ও বিএনপি’র সময় শেষ। আজরাইল বিএনপি’র নেতাদের গলা টিকে ধরবে। সময় নেই। ফখরুল সব সময় মিথ্যা বলেন। 

সমাবেশে দুপুর থেকেই জেলার ৫টি উপজেলা সদর (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা), রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও ও বন্দর থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে ও বিভিন্ন ধরনের বাজনা বাজিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশ স্থলে যোগ দেন। এ সময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের নেতার ছবি সম্বলিত গেঞ্জি ও চুপি পড়ে, ফ্যাষ্টুন, ব্যানার নিয়ে সমাবেশে জড়ো হন। এ সময় আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এখানে তীল ধারণের ঠাঁই ছিল না। স্থানীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সমানে আগামী সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবি জানান।

সেতুমন্ত্রী  বলেন, বিএনপি জনগণকে খাম্বা দিয়েছে বিদ্যুৎ দেয়নি। তখনকার লোড শেডিংয়ের বাংলাদেশ, এখন সেই বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। শেখ হাসিনা গ্রামকে শহর বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, খেলা তাহলে হবে, খেলা হবে, বিএনপিকে ছাড় নেই, তাদের হাতে আর সময় নেই। অক্টোবরে ৩৬ দিন সময় দিয়েছি। ৩৬ দিন পার হলে তার কত দলবল দেখব। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল নাকী ঢাকাকে অচল করে দেবেন। নারায়ণগঞ্জ সোনাগাঁয়ের জনগণই যথেষ্ট বিএনপিকে অচল করে দিতে। আগামীতে দেশের মানুষই বিএনপিকে অচল করে দেবে।


বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ওরা গণতন্ত্রের কী জানে? ওরা জানে মানুষ খুন, লুটপাট, ভোটচুরি, দুর্নীতি। শেখ হাসিনাকে বার বার টার্গেট করেছিল বিএনপি। এদের হাতে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমতা আর ফিরিয়ে দেবে না। আপনাদের বলছি বিএনপি থেকে সাবধান।


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল বলেন শেখ হাসিনা ঘোরাঘুরি করেন। শেখ হাসিনা কোথায় গেছেন। জি-২০ সম্মেলনে। কী সম্মান নরেন্দ্র মোদি দিয়েছেন! নিউইয়র্কে গিয়েছেন, কী সম্মান পেয়েছেন! শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত। দেশের প্রয়োজনেই তিনি বাইরে যান। তিনি ব্রাসেলসে যাচ্ছেন আমন্ত্রণে। তিনি যাচ্ছেন দেশের জনগণের জন্য। 

নিত্যপণের দাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই সংকট, জিনিসপত্রের দাম কিছুই থাকবে না। সামনে জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে। অচিরেই তেল, চাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝবেন না। তার ওপর আস্থা রাখেন। শেখ হাসিনা আছেন না? রাতে তিনি তিন ঘণ্টা ঘুমান। এমন নেতা আর পাবেন না। মানুষের জন্য তিনি চিন্তা করেন। মানুষের জন্য দিনরাত তিনি ভাবেন। তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। ৭৫’র পর এমন নেতা আর বাংলাদেশে পাবেন না। 


তিনি বলেন, আন্দোলন করবা, আগুন নিয়ে আসবা, হাত পুড়ে ফেলবো। লাঠি নিয়ে আসবা, হাত ভেঙে দেবো। তোমাদের সাথে আর কম্প্রোমাইজ না। তোমরা কম্প্রোমাইজের লোক না। তোমরা আমাদের শত্রু ভাবো, আমরা কেন বন্ধুত্ব রাখবো? বিএনপি আওয়ামী লীগকে শত্রু ভাবে আর আমরা তাদের প্রতিপক্ষ ভাবতাম। 


সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি অগ্নিসংযোগ করলে আওয়ামী লীগ বসে থাকবে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কোনো অপ্রীতিকর কিছু করতে দেয়া হবে না। 


শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন-আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হাসান নিখিল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোবারক হোসেনের পুত্র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এরফান হোসেন দিপ প্রমুখ।

রাজনীতি

আরও পড়ুন