• ঢাকা
  • সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬ , রাত ১১:২১
শিরোনাম
হোম / জাতীয়

পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

রিপোর্টার : ক্রাইম রিপোর্টার
পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র  ২০০ গজ দূরে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা


উন্নয়ন চিন্তা অনলাইন ডেস্ক :

ঝিনাইদহে প্রবাসীর স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। আহত নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকেও জাবাই করার চেষ্টা করা হয়েছে। ভাগ্যক্রমে এখনো বেঁচে আছেন তিনি। 

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেতাই পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র ২০০ গজ দক্ষিণে খালকোলা গ্রামে। 

নিহত ওই নারী দুবাই প্রবাসী আবেদ আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫০)। আহত হয়েছেন ফাতেমার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী মেহেদী হাসানের স্ত্রী ইয়াসমিন বিথী (২০)। এ ঘটনায় জড়িত দুজনকেই আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন— সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে সাগর হোসেন ও ছোট ঝিনাইদহ গ্রামের ফেলু সরকারের ছেলে সুশান্ত সরকার।  পেশায় তারা রাজমিস্ত্রি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন উদ্দীন ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ক্যাম্পের আইসি (ইনচার্জ) আমিরুজ্জামান জানান, নির্মাণাধীন বাড়ির সামনের ইটের দেয়াল ভেঙে ঘাতকরা ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় পৃথক দুটি কক্ষে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে গলাকাটা হয় ফাতেমা বেগম ও ইয়াসমিন বিথীর। ফাতেমার গলা ঘাড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং বিথীর গলা কাটা হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। ঘাতকরা ফাতেমার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘরে আসবাবপত্র তল্লাশি শুরু করে এবং নগদ চার হাজার টাকা, মোবাইল, স্বর্ণের দুল নিয়ে পালিয়ে যায়। কোনোভাবে হাত-পায়ের বাঁধন খুলে বিথী ঘরের বাইরে চলে আসেন। এ অবস্থায় বিথীর হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।  কথা বলতে না পারলেও কাগজে হত্যাকারীদের নাম লিখে দেন তিনি। ওই বাড়িতে শাশুড়িসহ থাকতেন বিথী। হত্যাকারী আগে থেকেই বিষয়টি জানতেন। 

গ্রামবাসীরা আহত বিথীকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ক্যাম্পের আইসি (ইনচার্জ) আমিরুজ্জামান রাতেই জড়িত দুই হত্যাকারীকে ধরে ফেলেন এবং হত্যায় ব্যবহার করা ছুরি ও লুট করা মোবাইল স্বর্ণ উদ্ধার করেন। আজ সকালের দিকে গুরুতর আহত ইয়াসমিন বিথীকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা গুরুতর।

সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার আজিম-উল-আহসান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আবেদুর রহমানসহ সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা। তারা জানিয়েছেন, হত্যকারীরা ওই বাড়িতে রাজ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার ৪০ হাজার টাকা পাঠান দুবাই প্রবাসী আবেদ আলী। ওই টাকার কথা জানতে পারে হত্যাকারীরা। এরপর ইটের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পৃথক পৃথক কক্ষে জবাই করা হয় শাশুড়ি ও ছেলের বউকে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বিথী। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে। থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি।
  

জাতীয়

আরও পড়ুন