জেলা প্রতিনিধি
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ (সদর উপজেলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান দুলু।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন : আমি গত ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। জনগণ আমাকে আবারও চায়,তাই প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছি।তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু ভোট হওয়া একটা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। আমি মনে করি যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে আমি শতভাগ আশাবাদী ময়মনসিংহ সদর এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিবেন। এই আশা নিয়ে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর)আসন কতটুক আধুনিক রোল মডেল হয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে যতগুলো এমপি জয়যুক্ত হয়েছে বা সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করেছে। তারা পর্যায়ক্রমে আসলে স্বাধীনতা পর থেকে সঠিকভাবে কাজ করার মত একটাও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়নি। আমি যদি আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই তাহলে যুবকদের নিয়ে কাঁধে কাঁধ রেখে এই আসন একাকাকে আধুনিক রোল মডেল হিসেবে তৈরি করতে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে এই বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ডিসি সাহেব ও এসপি সাহেবের সাথে কথা হয়েছে তারা বলেছেন এই নির্বাচন বিগত নির্বাচন মত হবে না। তার কিছু উদাহরণ দিয়েছে যেমন, ব্যালট পেপার সকালে পাঠাবে, প্রত্যেকটা কেন্দ্রে একটি করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। মানে প্রার্থীর একটা আলাদা অগ্রাধিকার থাকবে। এই বিষয়গুলো তারা আমাকে নিশ্চিত করেছে। তারা বলছেন ভোট সুষ্ঠু হবে এই আশা নিয়েই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমার এই আসনে অনেক বেকার যুবক যুবতী রয়েছে তাদের যেন কর্মস্থল তৈরি হয় আমি সেই লক্ষ নিয়ে কাজ করবো। আমি যুবকদের বেশি সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দেবো। যেন তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে নেই এই বিষয়ে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন খান দুলু বলেন, এখানে প্রতিটা দলের আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার রয়েছে বা ক্ষমতা আছে। তবে তাদের দাবি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দাবি। কিন্তু জনগণের একটা দাবি। সংবিধান অনুযায়ী এই রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনগণের ভোটের অধিকার কয়েকবার হরণ করা হয়েছে। এইজন্য এবারও আস্থা আনতে পারছেন না। বারবার আস্থার কথা বললেও আস্থা বাস্তবায়ন হয় নাই। এইজন্য তাদের দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন যাবে না। এটা তাদের দলের ব্যাপার বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে ২০০১ সালে বিএনপি’র দলীয় এমপি হয়েছিলাম। বিএনপি’র সাবেক জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দুলু এক-এগারোর সংস্কারপন্থি হিসেবে দল আনাকে বঞ্চিত করা হয়েছিলো। এরপর থেকে বিএনপিতে আমার কোনো পদ নেই। দেলোয়ার হোসেন খান দুলু বলেন, সংস্কারপন্থি হিসেবে গত ১৫ বছর বিএনপি আমাকে দলে রাখেনি।কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য থাকলেও ২০০৯ সালে সেখান থেকে বাদ দেয়া হয়। বর্তমানে দলের কোনো সদস্য পদ নেই। সাধারণ মানুষ যারা আমাকে পছন্দ করেন, তাদের ওপর নির্ভর করে প্রার্থী হয়েছি। আমি শতভাগ আশাবাদী এবার নিবার্চনে জনগণ ভোট দিতে পারবে। আর জনগনকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।